বইটির বিবরণ
এই উপন্যাস সেই মানুষটিকে নিয়ে, বরং বলা ভালো সেই মানুষদের নিয়ে যাঁরা নিজেদের সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বেঁচে থাকাটাকে প্রকৃত অর্থেই উৎসবে পরিণত করতে পারেন। জীবন এমনই। সবকিছু শেষ হলেও আবার নতুন করে সব শুরু করা যায়। এই গল্প শুরু হয় এক আধুনিক চা কর্নার তথা ফুডকোর্টকে কেন্দ্র করে। প্রতিটি টেবিলে জমে ওঠে এক একটি গল্প। জীবনের নানা পর্ব, নানা রং উম্মোচিত হয় প্রতিটি টেবিল ঘিরে। কখনো উচ্চবিত্ত সমাজের লুকানো কান্না, কখনো অন্ধকার, কখনো আলো। শ্যামাশ্রী, মি বকসি, ছোট্ট মেয়ে ঝিলমিল ও তার বাবা, সন্তান হারানো ভায়োলিন বাদক মিস্টার অ্যান্ড মিসেস শ্রীবাস্তব, আধ পাগলা রঘুদা, যেন অসংখ্য চরিত্র নিয়ে চিত্রিত এক জীবনের জলছবি। তবে সর্বোপরি এ কাহিনি এক প্রেমের গল্প বলে, বলে পারস্পরিক হাত বাড়ানোর গল্প। হার না মানা জেদের গল্প।
লেখকের পরিচিতি

অনিন্দিতা গোস্বামী কথাসাহিত্যিক ও কবি। ছোটোবেলা থেকেই কবিতা লেখার শুরু। জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলা-শহর কৃষ্ণনগরে। ১৯৯৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন প্রথম কবিতার বই প্রকাশ। ভূগোলে স্নাতকোত্তর। গবেষণার কাজ অর্ধসমাপ্ত রেখে ডুব দেন নিজস্ব লেখালেখির জগতে। ২০০৬ সালে আনন্দবাজার পত্রিকার নবান্নতে গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে গদ্যসাহিত্যে আত্মপ্রকাশ। দেশ, আনন্দবাজার, বর্তমান, আজকাল, সানন্দা, অনুষ্টুপসহ নানা পত্রিকায় এ পর্যন্ত লিখেছেন প্রায় দেড় শতাধিক গল্প, অসংখ্য কবিতা, উপন্যাস। নানা সংকলনে স্থান পেয়েছে তাঁর একাধিক গল্প । বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে বিভিন্ন গল্প। করুণা প্রকাশনী, আনন্দ পাবলিশার্স, গুরুচণ্ডালী ইত্যাদি থেকে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তেরো। পেয়েছেন রেউই সম্মাননা, জাগরণ সম্মাননা, সোরাব হোসেন স্মৃতি সম্মানসহ নানা সম্মাননা। অর্জন করেছেন সাহিত্য আকাদেমি প্রদত্ত জুনিয়র রাইটার ফেলোশিপ (২০১০)। সাহিত্য আকাদেমি, বাংলা আকাদেমিসহ বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে আমন্ত্রিত হয়ে দিয়েছেন বক্তৃতা। যুক্ত রয়েছেন শিক্ষকতার সাথে। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বই হলো – নোনাজল, মায়াময়, প্রলাপ নদীর কথা, অববাহিকা, পঞ্চাশটি গল্প ইত্যাদি।